পার্শ্বচরিত্রের জ়ম্বি-রাই ছবির প্রাণ, দেখুন এঁদেরও

Spread the love
  • 40
  •  
  •  
  •  
    40
    Shares

নবীন পরিচালকের হাত ধরেই তো এক্সপেরিমেন্টাল ছবি আসবে। সেটাই কাম্য। নবীন পরিচালকরাই বলার সাহস রাখেন যে, আমরাই প্রথম এনেছি। অভিরূপ ঘোষ জ়ম্বিস্তান এর ব্যাপারে এই স্পর্ধাটা যেন সজোরে বেরিয়ে আসে। এই গোত্রের ছবি এখনও অবধি বিশ্ব সিনেমায় বিশেষ চর্চিত। বাংলা ছবির মেকাররা এখনও এটা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটির বিশেষ চেষ্টা করেননি। জ়ম্বি গোত্রের ছবির অন্তর্নিহিত অর্থটা বেশ গভীর। অনেক ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের দিকদর্শক। অভিরূপের ছবিতেও ‘শেষ সময়’-এর ভয়াল ভয়ঙ্কর দৃশ্যপট আছে। কাহিনির শুরুতেই তা প্রতীয়মান। পশ্চিমবঙ্গ ভরে গিয়েছে নরখাদকে। মানুষই ছোঁয়াচে রোগে পরিণত হচ্ছে নরখাদকে। বেঁচে যাওয়া মানুষের নতুন নাম সারভাইভার। তনুশ্রী ওরফে আকিরা তাদের মধ্যেই একজন। চেষ্টা করছে জ়ম্বিদের থেকে বাঁচার। পরিস্থিতি থেকেই খুঁজে নিচ্ছে আত্মরক্ষার রসদ। দেখা হচ্ছে রুদ্রনীল ঘোষের সঙ্গে, যে আরও এক বেঁচে যাওয়া মানুষ।
কিন্তু সত্যিই কি তারা মানুষ? মানুষ নামের উপযুক্ত কি তারা? প্রাণ যেখানে প্রতিমুহূর্তে বিপন্ন, সেখানে কি নতুন করে শুরু হচ্ছে খাদ্যখাদক সম্পর্ক? ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে, বিবেক, মূল্যবোধ, নারী-পুরুষ রসায়ন? বীভত্স এক পৃথিবীর বাসিন্দা হয়ে উঠছি আপনি, আমি সকলেই?
ঠিক এই জায়গায় অভিরূপের বক্তব্যটা জোরালো হচ্ছে, আর ঠিক তখনই বাঁধুনির অভাবে চিত্রনাট্য ও সংলাপ টলমল করছে। রজতাভর মতো বলিষ্ঠ অভিনেতাকে পেয়েও যেন সুবিচার করতে পারলেন না মনে হল। মানবিক অধঃপতন ও বীভৎসতার চিত্র আঁকতে গিয়ে অবিশ্বাস্য ডিসটোপিয়ায় চলে গেল ছবিটি। তবে, সারা ছবি জুড়ে তনুশ্রীর মনকাড়া অভিনয়… সত্যি মনে রাখার মতো।


স্পেশাল এফেক্টস এর ব্যবহার যথাযথ, ছবির বাজেট আরও বেশি হওয়ার দাবী রাখে। মেক-আপ আর্টিস্ট সেই অভাব পূরণ করেছে। তবে যাঁদের কথা না বলা হলে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে এই রিভিউ, তারা জ়ম্বি অভিনেতা। পার্শ্ব হয়েও মুখ্য তাঁরাই। হাঁটাচলা, অঙ্গভঙ্গি বুঝিয়ে দেয় যে তাঁরা দক্ষ থিয়েটার অভিনেতা। জ়ম্বিস্তান এর প্রাণভোমরা এঁরাই। ছবি দেখার সময়ে এঁদের মিস করবেন না!


Spread the love
  • 40
  •  
  •  
  •  
    40
    Shares