400 বছর আগে কলকাতার প্রথম দুর্গাপূজা আজ কীভাবে বেঁচে আছে দেখুন #Exclusive

Spread the love
  • 718
  •  
  •  
  •  
    718
    Shares

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সবের সাথে পুজোও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সে তাঁর সাবেকিয়ানার মোড়ক ত্যাগ করে আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে বেশ আধুনিক হয়ে উঠেছে। আলোর রোশনাই, থিমের তাক লাগানো প্যান্ডেল, প্রাসাদপম প্রতিমা যেন প্রতি বছর বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। শহরের প্রতিটি অলিগলিতে হোর্ডিং এর ছড়াছড়ি। কিন্তু এত জমজমাটের মধ্যে কোথাও যেন আন্তরিকতা হারিয়ে যাচ্ছে, সাবেকিয়ানা ঐতিহ্য যেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাও শহরের বুকে এমন অনেক পুরোনো রাজবাড়ি আছে যেখানে ঢুঁ মারলে এখনো সাবেকিয়ানার ছোঁয়া পাওয়া যায়। আজ এমনই এক রাজবাড়ির খোঁজ দেব যাঁদের হাত ধরে কলকাতায় প্রথম দুর্গাপুজো এসেছে।

আজ বলব সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের পুজোর গল্প।। বর্তমান দক্ষিণ কলকাতার একদম প্রান্তে বরিষায় এই জমিদার বাড়ি অবস্থিত। কথিত আছে এক সময় বরিষা, হালিশহর সমেত বর্তমান বাংলাদেশের কিছু অংশও এনাদের জমিদারির অন্তর্গত ছিল। শোনা যায় ১৬০৮(মতান্তরে ১৬১০) এ তৎকালীন জমিদার লক্ষীকান্ত রায়চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী ভগবতী দেবী এই পুজোর সূচনা করেন অর্থাৎ ব্রিটিশরাও ঠিকমত ভারতে পদার্পণ করেনি তখন। এই পুজো আটচালা পুজো নামেও খ্যাত। কলকাতার বহু মানুষ এমনকি অনেক বিদেশিরাও আসেন পুজোর সময়। পুজোর চার দিনই দুয়ার অবাধ থাকে সাধারণ মানুষের জন্য। পুজোর চারদিনই ভোগ খাওয়ানো হয়, গড়ে প্রায় ২০০ মানুষ ভোগ খান প্রতিদিন। ঐতিহ্য অনুযায়ী মটচৌরি পদ্ধতিতে প্রতিমা তৈরি হয়। চারপাশে বহু পুজো হলেও রীতি মেনে আজও সবার আগে জমিদার বাড়ির ঠাকুর ভাসান হয় তারপর বাকিরা। এখানে আশা বিভিন্ন। মানুষের থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী বোঝা যায় যে চারপাশের এত আধুনিকতার মাঝে এখানে যেন শান্তি মেলে, এখানে এখনও পূর্ণরূপে সাবেকিয়ানার স্পর্শ পান, নিখুঁত ভক্তি ,পরতে পরতে ঐতিহ্য এখনো তাঁদেরকাছে টানে। এখন বর্তমানে জাঁকজমক অনেকাংশে কমলেও পুজোর নিষ্ঠাচারে কোনও কার্পণ্য করা হয় না। বর্তমান। পরিবারের সদস্য শুভদ্বীপ রায়চৌধুরীর কাছে পুজো আর কতদিন চালাতে পারবেন তা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন যে যতদিন মা এর আশীর্বাদ ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা থাকবে ততদিন মা এর পুজো হবে।


Spread the love
  • 718
  •  
  •  
  •  
    718
    Shares