প্রথম ছবিতেই জাতীয় পুরস্কার! পেয়েছেন গোল্ড মেডেলও তবু অন্ধকারে তলিয়ে গেলেন তারকা অভিনেত্রী

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একজন দাপুটে অভিনেত্রী হিসেবে আমরা তাঁকে চিনি।

1950 সালের 19 নভেম্বর এলাহাবাদের এক মুসলমান খানদানী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রেহানা সুলতান।
তাঁর বাবা সুলতান দুরানি এবং তিনি ছিলেন একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। আর মায়ের নাম মাজদা খানুম। তাঁর মা ও একজন অভিজাত পরিবারের সন্তান।
ভাই-বোনেদের মধ্যে ছোট ভাই শোয়েব ছিল রেহানার সবচেয়ে কাছের। আর তাঁর ভাইও একজন অভিনেতা।

ছোট থেকেই রেহানার অভিনয় করার শখ। মাধ্যমিক পাশ করার পরই তাঁর বাবা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “তুমি এবার কি করতে চাও?” রেহানা উত্তরে বলেছিলেন, “আমি অভিনয় করতে চাই, হিরোইন হতে চাই।”
হ্যাঁ রেহানা এখন সত্যিই অভিনেত্রী। অভিনেত্রী হওয়ার পথটা মোটেও সহজ ছিল না রেহানার কাছে।
এলাহাবাদ থেকে রেহানা চলে আসেন পুনেতে এবং সেখানেই শুরু হয় তাঁর লড়াই। পুনেতে এসে একটি ফিল্ম এবং টেলিভিশন ইনস্টিটিউটএ তিনি অভিনয় শেখার জন্য ভর্তি হন।

ইনস্টিটিউশনের কোর্স চলা কালীন রেহানার পরিচয় হয় বিখ্যাত পরিচালক , প্রডিউসার এবং লেখক রাজেন্দ্র সিং বেদির সঙ্গে। তখন রেহানা রাজেন্দ্র সিং বেদির একটি ছবিতে সাইন করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, সেই ছবির শুটিং শুরু হয়নি। শর্ত ছিল, যতক্ষণ না রেহানা তাঁর কোর্স করছেন ততক্ষণ ছবির শুটিং তিনি শুরু করতে পারবেন না। আর তেমনটাই হল। রেহানা তাঁর কোর্স শেষ করলেন এবং গোল্ড মেডেলও পেলেন।

তারপরে তিনি মুম্বাইতে আসেন এবং রাজেন্দ্র সিং বেদির ছবি ‘দস্তক’ এর শুটিং শুরু করেন। 1970 সালে ছবিটি মুক্তি পায়। আর এই ‘দস্তক’ ছবির জন্যই রেহানা সুলতান জাতীয় পুরস্কার পান।


রেহানা সুলতানের আরেকটি ছবি মুক্তি পায়। ছবির নাম ‘চেতনা’। পরিচালক বি.আর.ইশারার ছবি ‘চেতনা’য় দর্শক রেহানার সম্পূর্ণ অন্য রূপ দেখতে পান। এই ছবি দেখার পর দর্শক বুঝতে পারেন রেহানা শুধু একটি চরিত্রেই নয় তিনি নিজেকে মেলে ধরতে পারেন বিভিন্ন চরিত্রে।

রেহানা বলতেন, “প্রতিটি মানুষের জীবনেই চড়াই-উৎরাই আছে। আমার জীবনেও এসেছে।”
তারপর রেহানার সাথে শুরু হয় পরিচালক বাবু রাম ইশারার প্রেম পর্ব। রেহানা বলেন, “আমি ওঁর চোখে সত্যিকারের ভালবাসা দেখেছিলাম। তাই 1983 সালে আমরা দুজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই।”
কিন্তু মা হওয়া সম্ভব হয়নি রেহানার ।

একের পর এক হিট ছবি দিয়েছেন রেহানা কিন্তু তারপর একসময় তাঁর মনে হয় এবার অভিনয় জীবন থেকে তাঁর অবসর নেওয়ার সময় হয়ে গেছে। রেহানা সুলতানের সঙ্গে তাঁর স্বামী খুব সুখী ছিলেন। কিন্তু একটা সময় বি.আর.ইশারার শরীর খুব খারাপ হয়ে যায় তাঁর টিভি ধরা পড়ে। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।
2012 সালের 25 শে জুলাই বাবু রাম ইশারা পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। রেহানা একা হয়ে যান।

কিন্তু তাঁর ছোট ভাই শোয়েব সবসময় তাঁর সঙ্গে থেকেছেন এবং তাঁর সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন বিভিন্ন সুখ-দুঃখের গল্প।


Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •